প্রকাশিত:
২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এক ভয়াবহ পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে একটি আবাসিক এলাকায় নিজ পরিবারের সদস্যদের ওপর এক ব্যক্তির অতর্কিত গুলিবর্ষণে এই রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটলান্টায় অবস্থিত ভারতীয় মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।
ফক্স৫ আটলান্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম বিজয় কুমার (৫১)। তিনি আটলান্টার বাসিন্দা। গুইনেট কাউন্টি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন— বিজয় কুমারের স্ত্রী মীমু দোগরা (৪৩), গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দর (৩৭) এবং হরিশ চন্দর (৩৮)।
টেক্সাস পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সাথে তার স্ত্রীর তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। ঝগড়া চলাকালীন এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র বের করে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি চালাতে শুরু করেন। গুলিবর্ষণের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী, শাশুড়ি এবং আরও দুই নিকট আত্মীয়। চারজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।
প্রতিবেশীরা গুলির শব্দ শুনে দ্রুত জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দেখতে পায়, ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় চারজন পড়ে আছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তখন পালানোর চেষ্টা না করে অস্ত্রের মুখে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ এবং দীর্ঘদিনের মানসিক টানাপোড়েন থেকে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গোলাগুলি শুরু হওয়ার সময় বাড়িতে তিনটি শিশু ছিল। নিজেদের বাঁচাতে তারা একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়ে।
নিহত চারজনই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তবে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে পুলিশ এখনো নিহতদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ভারতের কেরালা বা অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন এবং গত কয়েক বছর ধরে টেক্সাসে বসবাস করছিলেন।
অভিযুক্ত বিজয় কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে—চারটি গুরুতর হামলার অভিযোগ, চারটি ফৌজদারি হত্যা, চারটি পরিকল্পিত হত্যা, প্রথম ডিগ্রিতে শিশু নির্যাতনের একটি অভিযোগ এবং তৃতীয় ডিগ্রিতে শিশু নির্যাতনের দুটি অভিযোগ।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের মধ্যে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার কারণে এ ধরনের সহিংসতা বাড়ছে।
টেক্সাসের কাউন্টি শেরিফ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘ক্যাপিটাল মার্ডার’ বা প্রথম মাত্রার হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। টেক্সাসের আইন অনুযায়ী এই অপরাধের সাজা মৃত্যুদণ্ড বা আমৃত্যু কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তাকে স্থানীয় কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং প্রবাসীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য বিশেষ কাউন্সিলিং সেবার আহ্বান জানানো হয়েছে।